সাগরে এক জালেই ধরা পড়ল ৯৫ মণ ইলিশ, ৩০ লাখে বিক্রি
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২০-০৯-২০২৬ ০৩:২৩:০৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২০-০৯-২০২৬ ০৩:৩০:২৮ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের হতাশা কাটিয়ে গভীর বঙ্গোপসাগরে এক জালেই বিপুল পরিমাণ ইলিশের দেখা পেয়েছেন পাথরঘাটার এক জেলে ট্রলারের মালিক। জাল ফেলার মাত্র দুই ঘণ্টা পর ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ে জালে।
মাছের পরিমাণ এত বেশি ছিল যে, জাল থেকে ইলিশ ছাড়াতেই হিমশিম খেতে হয় জেলেদের। পরে প্রায় ৯৫ মণ ইলিশ নিয়ে বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য ঘাটে ফেরে ফিশিং ট্রলার এফবি নাজমা। এসব মাছ বিক্রি করে প্রায় ৩০ লাখ টাকা পেয়েছেন ট্রলার মালিক।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এনামুল হোসাইনের মালিকানাধীন এফবি নাজমা ট্রলারটি বিপুল পরিমাণ ইলিশ নিয়ে পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্যঘাটে আসে।
ট্রলারের মাঝি বাপ্পি মিয়া জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে তারা পাথরঘাটা থেকে রওনা হন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গভীর সাগরে জাল ফেলেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর জাল তুলতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো জালজুড়েই রুপালি ইলিশ। বিপুল পরিমাণ মাছ ধরা পড়ায় জাল থেকে মাছ ছাড়াতে বেশ বেগ পেতে হয় তাদের।
তিনি আরো জানান, গত কয়েক মাস উপর্যুপরি লঘু চাপ/নিম্নচাপে আবহাওয়া খারাপ থাকায় ইলিশের মৌসুমেও ঠিকমতো মাছ শিকার করতে পারেননি তারা। এবার এক জালেই বিপুল পরিমাণ ইলিশ পাওয়ায় ট্রলার মালিক ও জেলেরা সবাই আনন্দিত। রবিবার সকালে মাছ বিক্রি শেষে আবার রাতে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
ট্রলারের জেলে শ্রমিক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় সংসার চালাতে তাদের অনেক কষ্ট হচ্ছিল। একসঙ্গে এত মাছ পাওয়ায় জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
ট্রলার মালিক এনামুল হোসাইন জানান, প্রায় ৯৫ মণ ইলিশ ১৮ হাজার টাকা থেকে ৪১ হাজার টাকা মণ ধরে বিক্রি করে ৩০ লাখ টাকার মতো পাওয়া গেছে। মাছগুলোর আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় দাম কিছুটা কম হয়েছে। এর চেয়ে একটু বড় সাইজের মাছ হলে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যেত। গত পাঁচ দিনে দুই ট্রিপে ৫৫ লাখ টাকার মাছ তিনি সাগর থেকে আহরণ করেছেন। সে ৬টি মাছ ধরার ট্রলারের মালিক।
পাথরঘাটা বি এফ ডি সি আরতদার সমিতির সভাপতি সগীর আলম জানান, চলতি ইলিশ মৌসুমে এক ট্রলারে ৯৫ মণ মাছ পাওয়া এটাই প্রথম।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন মাছের দেখা না পাওয়ায় লোকসানে ছিলেন ট্রলার মালিক ও জেলেরা। একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইলিশ পাওয়ায় সেই লোকসান অনেকটাই কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন তারা। একটি মাছধরা ট্রলারে এত মাছ পাওয়ায় বিএফডিসি ঘাটে যত ট্রলার ও জেলে ছিল তারা সবাই গভীর বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স